বরিশাল/News বরিশালের সর্বশেষ সংবাদ
Showing posts with label ধর্ম. Show all posts
Showing posts with label ধর্ম. Show all posts

Saturday, February 22, 2025

আশা ও ভয় নিয়ে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ

 

আশা ও ভয় নিয়ে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ





পরকালে মুমিনের জন্য সবচেয়ে বড় পুরস্কার হবে মহান আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভ। মহান আল্লাহ জান্নাতিদের তাঁর সাক্ষাৎ দান করবেন। এর আগে বিচার দিবসে সব মানুষ আল্লাহর সামনে সমবেত হবে। তবে সবার জন্য আল্লাহর সামনে উপস্থিত হওয়া সম্মানের হবে না, বরং কারো কারো জন্য তা হবে ভয়ংকর এক অভিজ্ঞতা।

তাই মুমিন পরকালে আল্লাহর সাক্ষাৎ লাভের আশা যেমন করবে, তেমন সামনে লজ্জিত হওয়ার ভয়ও করবে। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘সেদিন কোনো কোনো মুখমণ্ডল উজ্জ্বল হবে, তারা তাদের প্রতিপালকের দিকে তাকিয়ে থাকবে। কোনো কোনো মুখমণ্ডল হবে বিবর্ণ, আশঙ্কা করবে যে এক ধ্বংসকারী বিপর্যয় তাদের ওপর আপতিত হবে।’
(সুরা : কিয়ামা, আয়াত : ২২-২৫) 

রবের প্রতি চাই সুধারণা

পরকালে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তিনি ক্ষমা ও দয়ার আচরণ করবেন বলেই বিশ্বাস পোষণ করবে মুমিন।

আল্লাহর প্রতি তারা কখনো মন্দ ধারণা পোষণ করবে না। কেননা রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা বলেন, আমার বান্দা আমার ব্যাপারে যেমন ধারণা করে, আমি তেমনই।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪০৫)

হাইয়ান আবুন-নদর (রহ.) বলেন, আমি ওয়াসিলা ইবনুল আসকা (রহ.)-এর সঙ্গে  আবুল আসওয়াদ জুরাশি (রা.)-এর কাছে যাই। তিনি তখন মৃত্যুশয্যায় ছিলেন। ওয়াসিলা তাকে সালাম দিয়ে বসলেন এবং আবুল আসওয়াদ (রা.)-এর ডান হাত ধরে তার দুই চোখে ও চেহারায় মুছলেন। কেননা এই হাত রাসুল (সা.)-এর কাছে বাইয়াত নিয়েছিল। ওয়াসিলা (রহ.) তাঁকে বললেন, আপনার রবের ব্যাপারে আপনার ধারণা কেমন? আবু আসওয়াদ (রা.) মাথা নাড়িয়ে ইঙ্গিত দিলেন তিনি উত্তম ধারণা পোষণ করেন। ওয়াসিলা (রহ.) বললেন, সুসংবাদ গ্রহণ করুন। কেননা আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমার ব্যাপারে আমার বান্দা যেমন ধারণা করে, আমি তেমনই। সুতরাং সে আমার ব্যাপারে যেমন খুশি ধারণা পোষণ করুক।’

আল্লাহর প্রতি সুধারণার অর্থ

ইমাম নববী (রহ.) বলেন, ‘আলেমরা বলেন, আল্লাহ তাআলার প্রতি সুধারণার অর্থ হলো এই বিশ্বাস করা যে তিনি বান্দার প্রতি দয়া করবেন এবং তাকে ক্ষমা করে দেবেন। তারা আরো বলেন, সুস্থ অবস্থায় বান্দা ভীত ও আশান্বিত থাকবে; উভয়টি সমান অবস্থায় থাকবে। কারো মতে ভয়ের মাত্রা বেশি থাকবে। তারপর যখন মৃত্যুর আলামত প্রকাশ পেতে থাকবে, তখন আশার মাত্রা বাড়িয়ে দেবে অথবা কেবল আশাই করবে। কেননা ভয়ের উদ্দেশ্য হলো পাপ ও মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা এবং বেশি বেশি আল্লাহর আনুগত্য করা। সে পরিস্থিতিতে এগুলো করা অসম্ভব হয়ে যায়। সুতরাং তখন আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখা মুস্তাহাব, যে সুধারণায় অন্তর্ভুক্ত হয় আল্লাহর প্রতি মুখাপেক্ষিতা ও তাঁর প্রতি আত্মসমর্পণ।’ (শরহুন নববী আলা মুসলিম : ১৭/২১০)

মুমিন হৃদয়ে আল্লাহর প্রগাঢ় ভয়

মুমিন বান্দা তাঁর হৃদয়ে সর্বদা আল্লাহর ভয় লালন করে। আল্লাহর প্রতি সুধারণা কখনো তাকে তাঁর ভয় থেকে মুক্ত করে না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তারা কি আল্লাহর পরিকল্পনা থেকে নিরাপদ বোধ করেছিল? বস্তুত ক্ষতিগ্রস্ত লোকেরা ছাড়া কেউ আল্লাহর পরিকল্পনা থেকে নিরাপদ বোধ করে না।’ (সুরা : আরাফ, আয়াত : ৯৯)

আল্লামা ইবনে কাসির (রহ.) লেখেন, ‘এ কারণে হাসান বসরি (রহ.) বলেছেন, মুমিন আল্লাহর আনুগত্য করে ভীতসন্ত্রস্ত অবস্থায়। আর পাপী ব্যক্তি পাপকাজ করে নিজেকে নিরাপদ ভেবে।’

(তাফসিরে ইবনে কাসির : ৩/৪৫১)

শায়খ আবদুল্লাহ ইবনে বাজ (রহ.) বলেন, ‘এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো পাপে অবিচল থাকা এবং আল্লাহর অধিকারে অবহেলা করার পরও তার পরিকল্পনা থেকে নিরাপদ বোধ করার ব্যাপারে বান্দাকে সতর্ক করা। আল্লাহর সাধারণ রীতি হলো, বান্দা পাপে লিপ্ত হলে এবং আল্লাহর নির্দেশের বিপরীত কাজ করার পরও আল্লাহ তাদের ছাড় দেন ও তাদের নিয়ামত বাড়িয়ে দেন। ফলে তারা উদাসীন অবস্থায় হঠাৎ করে শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার উপযুক্ত হবে। কেননা তারা পাপে অটল ছিল ও আল্লাহর শাস্তি থেকে নিজেকে নিরাপদ ভাবত।’

(মাজমুউ ফাতাওয়া ইবনে বাজ : ২৪/২৩২)

আশা ও ভয়ের মাঝে ঈমান

শায়খ আবদুল্লাহ ইবনে বাজ (রহ.) বলেন, ‘মুসলিমের করণীয় হলো নিরাশ না হওয়া এবং নিজেকে নিরাপদও মনে না করা। সে যেন আশা ও ভয়ের মাঝামাঝি থাকে। কেননা আল্লাহ তাআলা নিরাপদ ভাবা ব্যক্তিদের নিন্দা করেছেন এবং নিরাশ ব্যক্তিদেরও নিন্দা করেছেন। একদিকে আল্লাহ বলেছেন, ‘তারা কি আল্লাহর পরিকল্পনা থেকে নিরাপদ বোধ করেছিল? বস্তুত ক্ষতিগ্রস্ত লোকেরা ছাড়া কেউ আল্লাহর পরিকল্পনা থেকে নিরাপদ বোধ করে না।’ অন্যদিকে বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না।’ সুতরাং মুমিন নারী ও পুরুষ আশা ও ভয়ের মাঝামাঝি থাকবে। মুমিন আল্লাহকে ভয় করবে, পাপ কাজের ব্যাপারে সতর্ক থাকবে, পাপ হয়ে গেলে দ্রুত তাওবা করবে, তাওবা কবুলের ব্যাপারে আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহের আশা করবে। তবে কখনো নিজের অপরাধ ও পাপের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত বোধ করবে না, বরং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পাপের অনুশোচনা করে যাবে। বারবার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে।

(ফাতাওয়া নুরুন আলাদ-দারব : ৪/৩৮)

মুমিনের প্রশান্তি শুধু জান্নাতে

মুমিনের প্রশান্তি শুধু জান্নাতেই অর্জিত হতে পারে। জান্নাতে প্রবেশের আগে মুমিন কখনো নিজেকে নিরাপদ মনে করবে না, সে নিজেকে আল্লাহর পরিকল্পনা থেকে নিরাপদ মনে করবে না। শুধু জান্নাতে প্রবেশের পরই সে নিরাপদ বোধ করবে। ইমাম আহমদ (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, বান্দা কখন প্রশান্তির স্বাদ পাবে? তিনি বলেন, ‘জান্নাতে প্রথমবার পা রাখার পর।’ (তাবাকাতুল হানাবিলা : ১/২৯৩)

আল্লাহ সবাইকে যথাযথভাবে আল্লাহকে ভয় করার তাওফিক দিন। আমিন।


‌‘রাষ্ট্রে ইসলাম বিজয়ী হলে সর্বস্তরের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে’

 

‌‘রাষ্ট্রে ইসলাম বিজয়ী হলে সর্বস্তরের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে’





ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম (চরমোনাই পীর) বলেছেন, দেশের মানুষ স্বৈরাচার পতনের পর থেকে ইসলামের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ইসলাম বিজয়ী হোক এটা এখন এ দেশের গণমানুষের জাতীয় দাবিতে পরিণত হচ্ছে। এদিকে ইসলামের গণজোয়ার ঠেকাতে একদল স্বার্থান্বেষী মহল ইসলাম সম্পর্কে মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছি যে রাষ্ট্রে ইসলাম বিজয়ী হলে সর্বস্তরের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।  

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঐতিহাসিক চরমোনাইর বাৎসরিক মাহফিলে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের গণজমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চরমোনাই পীর বলেন, বস্তুবাদী রাজনৈতিক সংগঠনগুলো ছাত্র রাজনীতির নামে সন্ত্রাসী তৈরির কারখানায় পরিণত হয়েছে। কিন্তু দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব দিতে আদর্শিক জনশক্তি উৎপাদনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ। আমাদের স্লোগান হচ্ছে সাহাবাদের অনুসরণ ইসলামী ছাত্র আন্দোলন। তাই সাহাবাদের চরিত্রে মানব জীবন গঠন করার লক্ষ্য-উদ্দেশ্য থেকে কখনোই দূরে সরা যাবে না। বরং যেভাবে স্বৈরাচার পতনে কাজ করেছে সেভাবেই দেশ গড়ার জন্য ছাত্র সমাজকে প্রস্তুতি নিতে হবে।  

ছাত্র গণজমায়েতের বিশেষ অতিথি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুহতারাম মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমদ বলেন, অন্যান্য সংগঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার আগের যোগ্যতা হিসেবে দেখা হয় কে কত সন্ত্রাসী কার্যক্রমে যুক্ত, কে কেন্দ্র দখল করতে পারবে, চাঁদাবাজি ও মাদকের সাম্রাজ্য গঠন করতে পারবে। কিন্তু ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের দায়িত্ব দেওয়ার আগে যাচাই করা হয় জ্ঞান ও সৎকর্ম। ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ সব সময় আদর্শিক নৈতিক শিক্ষা সিলেবাস প্রণয়নে সচেতন ভূমিকা ও সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে সমাজসেবা ও দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কাজ করছে তারা।  

গণজমায়েতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ুম, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি দেলোয়ার সাকি, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, ইসলামী মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, সামেত সামি তেমেল (তুরস্ক) সেন্ট্রাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রেসিডেন্ট-সাদেত পার্টি ইউরোপ শাখা, ড. আদেহ নুয়ানসা ইউবিসোনু (ইন্দোনেশিয়া) হেড অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স অব ইসলামিক উম্মাহ ইউনিয়ন, মিশর আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আহমাদ সিদকী।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমাদ মানসুরের সভাপতিত্বে আয়োজিত গণসমাবেশে আরও বক্তব্য দেন- মুনতাছির আহমাদ, মাহবুবুর রহমান নাহিয়ান প্রমুখ।



Thursday, February 20, 2025

Powered by Blogger.